বুধবার, ০৮ Jul ২০২০, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

পুষ্টি গুনে ভরা করলা ভাজি

পুষ্টি গুনে ভরা করলা ভাজি

করলা সবজি হিসেবে অসাধারণ। কম বেশি সবার ঘরেই এটি খাদ্য তালিকায় থাকে। করলা ভাজি খেতে হয় গরম গরম, নরম গরম ভাতের সাথে। একবেলায় করলা রেধে রেখে আরেক বেলায় খাবেন না, বরং কম করে রান্না করুন। আর তাজা রান্নাই খাবেন, খেতে ভাল লাগবে। করলার পুষ্টি গুনও অনেক। সেই সব রেসিপি শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। করলা ভাজির এই রেসিপিটি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সানজিদা ইসলাম

উপকরণ :
করলা ৫০০ গ্ৰাম, পেঁয়াজ কুঁচি এক কাপ, রসুন কয়েক টুকরো, কাঁচামরিচ ১০/১২ টি অথবা ঝাল পছন্দ অনুযায়ী, লবন স্বাদমতো, শুকনো মরিচ ৩/৪ টা, তেল পরিমান মতো।

রান্নার পদ্ধতি : করলা ভালো করে ধুয়ে পাতলা করে কেটে নিতে হবে। করলার খোসা ছাড়াতে হয় না। কাটার পর সবজি ধোবেন না, তাতে খাদ্যগুণ নষ্ট হয়।

এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে একটু গরম করুন। তেল হালকা গরম হলে তাতে শুকনো মরিচ দিন, পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন, কাঁচামরিচ দিয়ে ২/১ মিনিট ভেজে নিন। তারপর তাতে করলা, পরিমাণ মত লবন দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। চুলার আঁচ খুব বেশি থাকবেনা। কিছুক্ষন পর আবার নেড়ে দিন। এভাবে একটু পরে পরে কয়েক বার নেড়ে দিতে হবে। নেড়ে দেয়ার সময় খেয়াল রাখবেন খুব যেন ওলোট-পালোট করে নাড়া না হয়। তাতে করলা তিতা হয়ে ঊঠবে। করলা ভাজা-ভাজা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এরপর পরিবেশন করুন গরম গরম সাদা ভাতের সাথে।

করলার পুষ্টিগুন ও উপকারিতা :
করলা (করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে) এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ। এবার জেনে নিন, করলার আরো পুষ্টিগুন ও উপকারিতা :

ব্রকলির থেকে দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে করলায়। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী।

করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালং শাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেসার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।

করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি। ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

করলা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়বেটিসের রোগীদের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন। নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারি। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে। স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

করলার পুষ্টি গুন ও উপকারিতার কারণেই সবার উচিৎ হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় করলা রাখা উচিত। কম করে হলেও প্রতিদিন করলা খাওয়া গেলে এর পুষ্টি গুন পাওয়া যাবে। তবে যারা তিতা কম পছন্দ করেন, তারা তিতা কমানোর জন্যে উল্লিখিত রেসিপিতে করলার সঙ্গে অল্প আলুও যোগ করতে পারেন। এতে তিতা কম লাগবে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে করলার সঙ্গে আলু যোগ না করাই ভালো।

Facebook Comments

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |
Design & Developed BY Icche LOta